ভারতের ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী কোম্পানি সেরাম ইন্সটিটিউট যুক্তরাজ্যে তাদের কার্যালয় খোলার জন্য ৩৩ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করতে চাইছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের এসব ফ্যাসিলিটিতে ভ্যাকসিন প্রস্তুতের কথাও ভাবছে আদর পুনেওয়ালার এ প্রতিষ্ঠান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এসব তথ্য জানিয়েছে।
সেরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা আবিষ্কৃত করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সরবরাহের দায়িত্ব পাওয়া কোম্পানিগুলোর একটি এটি। প্রতি মাসে ৬ থেকে ৭ কোটি ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা তৈরি করছে তারা। জুলাই নাগাদ তা ১০ কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তাদের।
কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন দেশে সেরামের তৈরি অ্যাস্ট্রাজেনেকার এ ভ্যাকসিন রফতানি করছিলো ভারত। এমনকি দরিদ্র দেশে ভ্যাকসিনের সমবন্টন নিশ্চিতে গঠিত আন্তর্জাতিক জোট কোভ্যাক্সকেও ডোজ সরবরাহ করছিলো তারা। তবে সম্প্রতি করোনাভাইসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল হয়ে উঠেছে ভারত। এমন অবস্থায় নিজেদের জনগণের জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে আপাতত রফতানি নিষিদ্ধ করেছে দেশটি। এমন অবস্থায় বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য চাপের মুখে রয়েছে সেরাম। সংকট কাটাতে যুক্তরাজ্যে কার্যালয় খোলার পরিকল্পনা করছে তারা।
সোমবার (৩ মে) বরিস জনসনের ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, ২৪ কোটি ব্রিটিশ পাউন্ড (৩৩ কোটি ৩২ লাখ ডলার) মূল্যের এ প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাজ্যে একটি বিক্রয় কার্যালয় করবে সেরাম। সেখান থেকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল গবেষণা ও উন্নয়ন এমনকি ভ্যাকসিনও উৎপাদন করা হতে পারে।
ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেক আরও বলা হয় ভারতের সঙ্গে ১০০ কোটি মূল্যের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির অংশ হিসেবে এ পরিকল্পনা করেছে সেরাম। এর মধ্য দিয়ে সাড়ে ছয় হাজার মানুষের কর্মসস্থান হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ভার্চুয়াল আলোচনার আগে আগে এ ঘোষণা দেওয়া হলো। মঙ্গলবার (৪ মে) দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে আসার পর লন্ডন যেসব দেশকে বাণিজ্য চুক্তির তালিকায় শীর্ষে রেখেছে তার মধ্যে ভারত একটি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউকে কেন্দ্র করে এ মাসে হতে যাওয়া ভারত সফর স্থগিত করেছেন জনসন। রবিবার (২ মে) ব্রিটেন জানিয়েছে তারা ভারতের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার অক্সিজেন ভেন্টিলেটর পাঠাচ্ছে। এর আগে ৪৯৫ অক্সিজের কনসেনট্রেটর ২০০ ভেন্টিলেটর এবং তিনটি অক্সিজেন প্রস্তুতকারী ইউনিট পাঠিয়েছে।
সেরাম ইন্সটিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আদর পুনেওয়ালাও এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমসকে এক সাক্ষাৎকারে সেরামের তিনি বলেছিলেন,করোনার টিকা পেতে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে কর্পোরেট কর্তারা তাকে চাপ এবং কার্যত ‘হুমকি’ দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার আগেই ব্রিটেন পাড়ি জমান। পুনাওয়ালা আরও জানান, কোভিশিল্ড টিকার জন্য তাকে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্তা এবং অন্যরা ফোন করতেন এবং তারা তাড়াতাড়ি টিকা দেওয়ার দাবি জানাতেন। তিনি বলেন, ‘হুমকি বললে কম বলা হয়। মানুষের আশা এবং আগ্রাসন অভূতপূর্ব। এটা আশ্চর্যজনক। প্রত্যেকেই মনে করছেন, তার টিকা পাওয়া উচিত। তারা এটা বুঝতে চাইছেন না, কেন অন্যদেরও তাদের আগে টিকা পাওয়া উচিত।’

0 মন্তব্যসমূহ
thanks' for your comments